Zikra Institute

যিকরা ইন্সটিটিউট

Enlightened with Knowledge and wisdom- জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় আলোকিত হই 

আল্লাহ্‌ রাব্বুল আ’লামীন তার সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সাথে সাথে মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য দিয়েছেন কুরআন। শুধু তাই নয়, কুরআনকে মানুষের বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য করে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে মহাগ্রন্থ আল কুরআনকে ব্যাখ্যা করে মানব জাতির সামনে প্রয়োগযোগ্য করে উপস্থাপন করেছেন।

কুরআন নাজিলের সূচনাতেই ‘পড়ো তোমার রবের নামে’-এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়া’লা সর্বপ্রথম মানুষকে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সকল মানুষের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। আর কুরআন যেহেতু সকল জ্ঞানের আধার, তাই সর্বপ্রথম কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ফরজ।

যতদিন মুসলিম জাতি জ্ঞান অর্জনকে সবচেয়ে বড় ফরজ মনে করে নিজেদের জীবন পরিচালিত করেছিল জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে, ততদিন মুসলিমনগণ পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জাতির আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে ইবলিসের ষড়যন্ত্রের মুখে যখনই মুসলিমগণ কুরআন-সুন্নাহর সহীহ জ্ঞান থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে তখনই তাদের অধঃপতন শুরু হয়।

এরশাদ হয়েছে-
নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ বিশ্বাসীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন যখন তিনি তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকে পাঠালেন একজন রসূল, যিনি তাঁর নির্দেশাবলী তাদের কাছে পাঠ করেন ও তাদের পরিশোধিত করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেন; যদিও এর আগে নিঃসন্দেহে তারা ছিল স্পষ্ট ভুলের মধ্যে। (সূরা আলে ইমরান/ ৩:১৬৪)

এটা চরম সত্য যে, বর্তমানে মুসলিম জাতি পৃথিবীতে চরমভাবে অধঃপতিত। তার একমাত্র কারণ তারা কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা থেকে বঞ্চিত। তাই এ অবস্থা পরিবর্তনে প্রতিটি মুসলিমকে কুরআন-সুন্নাহর সহীহ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিকে ফিরে আসতে হবে।

এরশাদ হয়েছে-
কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে, আর পরস্পরকে সত্য অবলন্বনের জন্য বুদ্ধি দিচ্ছে, এবং পরস্পরকে অধ্যবসায় অবলন্বনের পরামর্শ দিচ্ছে। (সূরা আসর/ ১০৩:১-৩)

তাই, কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সহীহ জ্ঞানের আলোতেই আবার মুসলিম জাতির পুনর্জাগরণ সম্ভব। সকল মত পথ ও দলগত পার্থক্যের উর্দ্ধে উঠে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় জাতিকে উদ্ভাসিত করে তুলতে হবে। সৎকাজ, পরস্পরকে সত্য-বুদ্ধি দান এবং পরস্পরকে অধ্যবসায় অবলন্বনের পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে, প্রত্যেক ঈমানদারকে শেষ জামানায় নাজাতের সঠিক পথের সন্ধান করতে হবে।

এ বাস্তবতায় সকল মত পথ ও দলগত পার্থক্যের উর্দ্ধে উঠে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোয় সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে উদ্ভাসিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘যিকরা ইন্সটিটিউট’।

কুরআন-সুন্নাহ পড়া-পড়ানো, বুঝা-বুঝানো, গবেষণা ভিত্তিক গভীর অধ্যয়ন, কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানের প্রচার ও প্রসার, নিজেকে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করা, পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হতে উদ্বুদ্ধ করাই এ প্রতিষ্ঠানের একমাত্র কাজ। ‘যিকরা ইন্সটিটিউট’ বিশ্বাস করে- প্রতিটি পরিবারে একজন ব্যক্তি যদি কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হয় ও এর চর্চা শুরু করে, তবে তার তত্ত্বাবধানে পুরো পরিবারে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ ইসলামী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চর্চা শুরু হতে পারে।   

‘যিকরা ইন্সটিটিউট’ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্দ্ধে উম্মাহর কল্যাণে নিবেদিত একটি সেবামূলক দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হাজারো বিভ্রান্তির ভীড়ে সহীহ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা চর্চার এ প্রচেষ্টায় আমাদের সাথে আপনিও শরিক হোন। ইহকালীন ও পরকালীন সুন্দর জীবনের পথে আমাদের এই প্রয়াসে আপনাকে স্বাগতম। আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক, শারীরিক ও মানসিক সহযোগিতায় প্রতিটি পরিবার হয়ে উঠতে পারে এক একটি সহীহ কুরআন ও সুন্নাহ চর্চা কেন্দ্র। আপনিও চাইলে আমাদের সাথে আপনার সময় সাদাকাহ করতে পারেন। এরশাদ হয়েছে- নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ করে এবং সালাত কায়েম করে, আর আমার দেয়া রিজিক হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, তারা এমন একটি বাণিজ্যের আশা রাখে যা কখনো বিনষ্ট হবে না, – (সূরা- ৩৫ : ফাতির, আয়াত – ২৯)। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাভাষাভাষী ১০ কোটি মানুষকে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, কুরআনের অর্থ ও সালাত অনুধাবনে সক্ষম করতে কাজ করছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌! এ কাজে আপনিও অবদান রাখুন। সাপ্লিমেন্টারি এডুকেশন হিসেবে আপনার অফিস, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ ‘কুরআনের ভাষা ও সালাত অনুধাবন’ ক্লাস চালু করতে আজই যোগাযোগ করুন এবং আমাদের কাজের প্রচারে সহযোগী হোন। আল্লাহর পক্ষ হতে অবারিত সাদাকায়ে জারিয়াহ লাভে ধন্য হোন। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে তাওফীক দিন। আমীন।  

যিকরা ইন্সটিটিউট

 ভিমোসা-VMOSA

Vision
পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হতে উদ্বুদ্ধ করা।  

Mission
১. ইসলামী দাওয়াহ।
২. সর্বস্তরের মানুষের মাঝে কুরআনের মৌলিক জ্ঞান এবং ইসলামের প্রাথমিক ধারণাগুলি পৌঁছে দেয়া।
৩. কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করা।

Objectives
১. কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
২. কুরআন পড়া ও বুঝাকে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য সহজ করা।
৩. ইসলামের প্রাথমিক ধারণাগুলিকে সহজ করে মানুষের সামনে তুলে ধরা।

Strategy
১. ব্যক্তি নিজে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হবেন এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবকে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে সহায়তা করবেন।
২. কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে আগ্রহী ব্যক্তিকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।
৩. কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের ওপর সম্পাদিত প্রকাশনা ও ডকুমেন্টসমূহ সংগ্রহপূর্বক একটি তথ্য ভাণ্ডার বা আর্কাইভ গড়ে তোলা।
৪. মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের উপযোগী কোর্স তৈরী করা।
৫. গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে এপ, ভিডিও ও বইয়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া।

Action plan
১. বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপযোগী আলাদা আলাদা স্বল্প, মধ‍্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী কুরআন, নামাজ ও ইসলাম শিক্ষার কোর্স প্রণয়ন করা।
২. ক্যামব্রিজ ইসলামিক কলেজের আদলে “আলিমিয়্যাহ” (সবার জন্য ইসলাম শিক্ষা) কোর্স প্রণয়ন করা।
৩. কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের আলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ইসলামিক স্কলারদের চুম্বক আলোচনার জ্ঞানগর্ভ সংক্ষিপ্ত ভিডিও তৈরি করা।
৪. উম্মাহর সমসাময়িক সংকট ও উত্তরণ নিয়ে গবেষণাপত্র তৈরি করা ও আরবী ও ইংরেজী লিটারেচার অনুবাদ করা।
৫. যিকরা ইন্সটিটিউট-এর নিজস্ব একটি অত্যাধুনিক স্টুডিও, অনলাইন টিভি চ‍্যানেল- আই.পি টিভি, কুরআন রেডিও এবং অডিও ভিজুয়‍্যাল ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।
৬. উম্মাহর সমসাময়িক সংকট ও উত্তরণ নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা।
৭. কুরআনের মৌলিক জ্ঞান, কুরআনের ভাষা এবং ইসলামের প্রাথমিক ও ইন্টেলেকচুয়াল ধারণাগুলি নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা করার জন্য ইয়াং গবেষক টিম তৈরী করা।
৮. ইন্টেলেকচুয়াল ইয়াং গবেষক টিম তৈরী করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউশন/এনগেজমেন্ট ভিত্তিক স্কলারশীপের ব্যবস্থা করা।
৯. কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সহীহ জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত সকলের সাথে মতবিনিময় এবং সেমিনার সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা।                                                      

উপদেষ্টা
১. প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ এন্তেপলি, ডিউক ডিভিনিটি স্কুল, নর্থ ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র।
২. ড. দোলিউরা আব্দুল মালিক যাকারিয়া, চেয়ারম্যান, আফ্রিকান ইন্টারফেইথ ফোরাম, আফ্রিকা। 
৩. ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক, চেয়ারম্যান, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪. ড. মীর মানজুর মাহমুদ, চেয়ারম্যান, সি.এ.ডি.টি, বাংলাদেশ।
৫. ড. ফাইজুল হক, গেস্ট লেকচারার, আই.আই.ইউ.এম, মালেশিয়া।

Scroll to Top